1. admin@amardeshpbd.com : amardesh :
  2. sumarubelp@gmail.com : suma :
সন্ধ্যার পর অনুসারীদের নিয়ে নিজ অফিসেই বসে জলসা - আমার দেশ প্রতিদিন
November 27, 2022, 12:58 am

সন্ধ্যার পর অনুসারীদের নিয়ে নিজ অফিসেই বসে জলসা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, এপ্রিল ১৮, ২০২২,
  • 42 Time View

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ফের দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ আক্তারুজ্জামান লিটন // খুলনা ব্যুরো।।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের আলাদীপুর-খাগড়াবুনিয়া নতুন
কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়কে
পিকেট ইটের খোঁয়ার বদলে ব্যবহার হচ্ছে নিন্মমানের আদলা ইটের খোঁয়া। এছাড়া
বরাদ্দে সড়কটি উঁচু করার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শাহীন
এন্টারপ্রাইজ’র খান শাহীন মোহন সড়কটি কোন প্রকার উঁচু না করেই দায়সারা
কাজ করে যাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকৌশলী মো: রবিউল ইসলামের সাথে গোপনে সমন্বয় করে
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অবাধে তার কাজ করে যাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে তার পছন্দের ঠিকাদার রয়েছেন। উপজেলায়
তাদের বাইরে কেউ কাজ পেলে তিনি নানাভাবে তাদেরকে হয়রানী শুরু করেন।
চাহিদামত নজরানা কিংবা কাজ নাহলে তাদেরকে লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করেননা
তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় কাজ করাই যেন দায় হয়ে দাড়াচ্ছে
ঠিকাদারদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, একদিকে উপকরণ সামগ্রীর
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অন্যদিকে সাইডে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটলেই
ঠিকাদারকে ধরে বসেন তিনি। তবে পাশাপাশি পছন্দের ঠিকাদারের অনিয়মের কাজে
দৃষ্টিগোচর হয়না তার। তার এই বৈষম্য নতুন করে ভাবাচ্ছে ভূক্তভোগী
ঠিকাদারদের। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের চেনা পথেই এগুচ্ছেন এলজিইডির এই
প্রভাবশালী প্রকৌশলী।
জানাযায়, চাকুরী জীবনে রবিউল ইসলামের সহকর্মীরা উচ্চপর্যায়ে চলে গেলেও
নিজ দূর্নীতি-অনিয়মের কারণে তিনি রয়ে গেছেন সেই তিমিরেই। তবে পদোন্নতি না
হলেও দূর্নীতির উপর ভর করে কপাল খুলেছে তার। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার
নিজ গ্রামে আলিশান আদলে বাড়ি নির্মাণ কাজ চলছে তার। সপ্তাহের প্রতি
বৃহস্পতিবার তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে চলে যান নিজ বাড়ির নির্মাণকাজ
তদারকিতে। অথচ, এলজিইডি’র সকল কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে থেকে সকল উন্নয়ন
কার্যক্রম পরিচালনার (নীরিক্ষণের) কথা রয়েছে। এনিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাহী
প্রকৌশল দপ্তর থেকে একটি শো-কজও হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজ অফিসেরই এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি
অফিসের জনৈক ওয়ার্কারের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে তাকে উর্দ্ধতন অনুসারী
কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে অন্যত্র বদলী করান। শুধু নিজ অফিসের
কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন। তটস্থ রয়েছেন, পছন্দের বাইরের ঠিকাদারসহ তাদের
কর্মচারীরাও। পছন্দমত কাজ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তাদের কর্মচারীদের
শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেও ছাড়েন তিনি। এমনকি তার অপকর্মের প্রতিবাদকারী
মিডিয়া কর্মীদেরও এক হাত নিয়ে ছাড়েন।
দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র জানায়, তার আগের কর্মস্থল যশোরের মনিরামপুরে
উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীণ নানা অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে
জড়িয়ে সেখানে যোগদানের মাত্র ৭ মাসের মধ্যেই শাস্তিমূলক বদলী নিয়ে চলে
যেতে হয় পাবনার বেড়া উপজেলায়। মনিরামপুরে কর্মরত থাকাকালীণ তার বিরুদ্ধে
সমকাল, যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন
প্রকাশ হয়। তবে এত কিছুর পরও আগের অবস্থানে ফিরেছেন তিনি। অসাধু উপায়ে
বেড়া থেকে অল্প দিনের ব্যবধানেই ভূতপূর্ব কর্মস্থলের পাশাপাশি খুলনার
ডুমুরিয়া উপজেলায় বদলী নিয়ে আসেন। এসেই বাজিমাৎ করতে নিজের অবস্থানকে
জানান দিতে ধরাকে সরাজ্ঞান করে ছাড়ছেন তিনি। বেঁছে নিয়েছেন পছন্দের
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্ণধারদের। মূলত তাদের সাথেই নিজ অফিসে
নিয়মিত সন্ধ্যায় জলসা হয় তার।
সূত্র জানায়, বেড়া থেকে বদলী নিয়ে ডুমুরিয়া অফিসে যোগদানের পর তিনি
যশোরের নওয়াপাড়া থেকে এলজিইডির জনৈক সার্ভেয়ার ও খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে
ওয়ার্কস্ট্যান্ডকে বদলী করিয়ে নিজ কর্মস্থলে এনেছেন। নিজ স্বার্থে
বিভিন্ন কাজের সাইডে তাদেরকে দিয়েই অপকর্ম করান তিনি।
সেক্ষেত্রে বাইরের কোন ঠিকাদার কাজ পেলে প্রথমত পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে
বশে আনার চেষ্টা করেন। কাজ নাহলে অনুসারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে
শুরু করেন ঝামেলা। এতেও কাজ না হলে নিজেই সাইডে শামীল হয়ে বিতন্ডায় জড়িয়ে
সংশ্লিষ্টদের মারতে পর্যন্ত উদ্যত হন তিনি।
এ ব্যাপারে মেসার্স শাহীন এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী খান শাহীন মোহন
জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে আমার ভাল সম্পর্ক রয়েছে ঠিক, তবে কাজে কোন
প্রকার অনিয়ম হচ্ছেনা।
ডুমুরিয়া উপজেলার জনৈক প্রবীন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
কর্মময় জীবনে বহু প্রকৌশল কর্মকর্তা দেখেছি তবে রবিউল ইসলামের মত এতবড়
দূর্র্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা চোখে মেলেনি তার। বর্তমান ঠিকাদারদের চরম
অসময়ে উপকরণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বাজারে পার্সেন্ট ছাড়া
বিলে স্বাক্ষর করেননা তিনি। এর উপর তো উপরি রয়েছে। এমন অভিযোগ, অধিকাংশ
ঠিকাদারদের।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: রবিউল ইসলাম বলেন, নিয়ম
মেনেই কাজ করি। সুবিধা বঞ্চিতদের কেউ কেউ তার বিরুদ্ধাচারন করতে পারেন।
এছাড়া সন্ধ্যার পর নিজ অফিস কক্ষ কিংবা কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি কৌশলে
এড়িয়ে যান তিনি।
এব্যাপারে এলজিইডির খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী এম কামরুজ্জামান জানান,
কর্মস্থলে নিয়মিত না থাকায় ইতোমধ্যে তাকে শো-কজ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের
বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Copyright © All Right Reserved 2020 আমার দেশ প্রতিদিন
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )