1. admin@amardeshpbd.com : amardesh :
  2. sumarubelp@gmail.com : suma :
ছোট গল্প " নুপুর " - আমার দেশ প্রতিদিন
November 29, 2022, 12:02 pm
ব্রেকিং নিউজ:

ছোট গল্প ” নুপুর “

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, নভেম্বর ২২, ২০২০,
  • 376 Time View

নীলা আক্তার
চতুর্থ বর্ষ,ঢাকা মেডিকেল কলেজ

স্বপ্নের আধেক দেখেই ঘুম ভেঙ্গে যায় জারার।কি এক ভেবে ঘন্টাখানেক সে যেন ঠাই বসে রইলো।শুনশান নীরবতা,দূরে কোথাও কিছু শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছে।হঠাৎ ঘোর কেটে জারা বুঝতে পারলো তার মনস্তাত্ত্বিক জগতে খেলে গেছে এক অজানা অপূরণীয় ইচ্ছাদের দৌড়।তা ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই বালির বাঁধের মত মলিন।সকাল হতে বোধহয় আরো কিছু সময় বাকি।জারা বিছানা ছেড়ে পূত পবিত্র প্রার্থনা রুমে গিয়ে বসলো।বিশ কি বাইশ দিন পর ওদের বড় উৎসব দূর্গা পূজা শুরু হবে।তারই তোড়জোড় কিছুটা লেগে ছিল বাড়িতে।মা দূর্গা আসার আগেই স্বপ্নে কিসের জানান দিয়ে গেলো সে বুঝতে পারলোনা।
জারাদের নিচু বংশ।একভাই, একবোন, বাবা মা, আর এক ঠাম্মি নিয়ে ওদের সংসার।যদিও পূজোতে আত্মীয় স্বজনের ভিড় থাকে বাড়িতে।জারার বড়ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়ছে।দু ভাই বোনই মেধাবী বটে।জারা এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার।ওর স্বপ্ন ও শিক্ষক হবে।প্রার্থনা রুমে একাকী বসে বসে কত না ভাবনাই ওর মনে।জারার অনেকদিনের শখ ছিল একজোড়া রুপোর গড়া নূপুরের।সেটা সবাই জানতো কিন্তু ওদের পরিবার দিনে এনে দিনে খাওয়া সংসার।তাই মনের সুপ্ত ইচ্ছেগিলো উঁকি মেরেই নীরব হয়ে পড়ে।এরকম কত না ইচ্ছের মনের গহীনেই মৃত্যু ঘটেছে জারার।তবুও জারা স্বপ্ন দেখে একদিন শিক্ষক হবে, প্রতি মাসের টাকা থেকে কিছু টাকা জমা করে একদিন সে রুপোর নূপুর গড়বেই।ঝনঝনিয়ে পায়ে হেঁটে দূরের কোনো স্কুলে গড়তে যাবে ভবিষ্যতের প্রজন্ম।জারা হঠাৎ এক দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে ফিরে যায় পড়ার টেবিলে ততক্ষণ ঠাম্মি উঠো তুলসী তলায় জল দিচ্ছে।
পূজোর বাকি আর ৪দিন।আত্মীয় স্বজন সব আসা শুরু করেছে জারাদের বাড়ি।এসেছে মাসতুতো পিসতুতো বোনেরা, ছোট কয়েক ভাইও।খুশির ফোয়ারা নেমেছে যেন।বাকি রয়েছে জারার বড়ভাই ধ্রুব।তারও আজকে বিকেলের ট্রেনে আসার কথা।সাথে নাকি দু একজন বন্ধু বান্ধবও আসবে শুনেছে মায়ের কথা।জারা বিকেলে মায়ের সাথে কাজে ব্যস্ত।হঠাৎ ধ্রুবর কণ্ঠ শুনে দৌড়ে যেতে ইচ্ছে করলো।কিন্তু ও এখন অনেক বড় হয়েছে।ধ্রুবর সাথে ওর দু বন্ধু এসেছে তাদের হাতে ব্যাগ,মিষ্টি টুকিটাকি।জারাকে ডেকে ধ্রুব বললো ওদের জন্য আমার রুমটা দেখিয়ে দে আমি দেখি বাবা কোথায়।ধ্রুবর বন্ধুদের মধ্যে একজন অনিমেষ জারাকে বললো তুমিই কি সেই রাজকুমারী?জারা বললো গরীবের নাম জারা হলেও তাদের নামের অর্থ রাজকুমারী হতে নেই।অনিমেষ বললো তার মানে তুমি জারা নামের অর্থ জানো?বাহ!চমৎকার।ধ্রুবর মুখে তোমার সুনাম অনেক শুনেছি কিন্তু এতটা চমকিত হবার মত মেধা তোমার জানা ছিলোনা।জারা বললো আপনারা ব্যাগ রেখে নিন, উঠোনে পানি দিচ্ছি ফ্রেশ হয়ে নিন চাইলে স্নান করেও ফেলতে পারেন।
পূজোর পর্ব শেষ।একে একে সবাই ফিরে যাচ্ছে আপনালয়ে।ধ্রুব আজ রাতের ট্রেনে ফিরে যাবে ভার্সিটিতে ওদের বন্ধুদের নিয়ে।বিদায় বেলায় ধ্রুবর বন্ধু অনিমেষ মুচকি হেসে জারার হাতে একটা কাগজে মোড়ানো কি এক দিয়ে বললো এখানে তোমার স্বপ্ন আছে পরে দেখে নিও।জারা নিতে আপত্তি জানালেও বাধ্য হলো নিতে।ঘরে ফিরে ব্যাগ খুলতেই যা দেখলো চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলোনা জারা।একজোড়া রুপোর নূপুর।ঠিক বাইশদিন আগে যা সে স্বপ্নে দেখেছিল গভীর রাতে।তবে কি ভাইয়া অনিমেষকে বলেছিল ওর ইচ্ছের কথা?নাকি অনিমেষ এক রাজদূতের মত এক চিলতে ঈশান বায়ু হয়ে এসেছিল?ভাবতেই চোখের কোণে কখন যে জল জসেছে বুতেই পারেনি জারা।হয়তো আর কখনো দেখা হবেনা অনিমেষের সাথে,হয়তো কাওকে এর জবাবও দিতে পারবেনা কে দিলো এই স্বপ্ন।কিন্তু স্বপ্নের পথে হাঁটতে এক ঘুমন্ত স্বপ্নকে জাগ্রত করার বাসনা, কামনা সব যেন মাথাতে উইপোঁকার মত কামড়ে খাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Copyright © All Right Reserved 2020 আমার দেশ প্রতিদিন
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )