1. admin@amardeshpbd.com : amardesh :
  2. sumarubelp@gmail.com : suma :
কক্সবাজারের টেকনাফ হ্নীলার ছদর সাহেব হুজুর( রহঃ)"র সংক্ষিপ্ত জীবনী - আমার দেশ প্রতিদিন
November 30, 2022, 8:06 am
ব্রেকিং নিউজ:

কক্সবাজারের টেকনাফ হ্নীলার ছদর সাহেব হুজুর( রহঃ)”র সংক্ষিপ্ত জীবনী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১,
  • 139 Time View

এইচ এম

আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগে ২০১৩ ইং, ২৪ শে জুলাই (১৩ ই রমজান ১৪৩৫হিজরী ) রোজঃ বুধবার’ দুপুর দুইটার সময় টেকনাফ বুককে খালি করে চিরদিনের জন্য মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কুতুবে আলম মুরশিদে বরহক আধ্যাত্মিক রাহবর আল্লামা শাহ মুফতি আযীযুল হক (রহঃ)”র সুযোগ্য খলীফা আধ্যাত্মিক জগতের সিংহ পুরুষ রাহনুমায়ে শরীয়ত পটিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও হ্নীলা জামিয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পাঁচ যুগের স্বনামধন্য শাইখুল হাদিস ও ছদরে মুহতামিম শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক ছদর(রহঃ)

শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক ছদর সাহেব হুজুর (রহঃ)”র সংক্ষিপ্ত জীবনী
জন্ম ও বংশপরিচয়
১৯১৬ সালে প্রাচীন কাল হতে ভৌগলিক দিক দিয়ে গুরুত্ববহ প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত পর্যটন নগরী নৈসর্গিক সৌন্দর্যেরঅনিন্দ্য সুন্দর দৃষ্টি নন্দন অপরূপা লীলাভূমী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ধীন হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব সিকদার পাড়া নামক গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ঐ আধ্যাত্মিক জগতের সিংহ পুরুষ আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক ছদর সাহেব হুজুর (রহঃ)
আর যার সৌভাগ্যে ছিল সেই আজিজী কাননের পুষ্প তিনি হলেন মাওলানা আব্দুর রউফ বিন মাওলানা আব্দুস সুবহান (রহঃ)
শাইখুল হাদিস আল্লামা ইসহাক ছদর সাহেব হুজুর (রহঃ) ছিলেন মাওলানা আব্দুর রউফের বড় ছেলে । তাঁরছিল দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।
জানা গেছে যে নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে হযরতের পূর্ব পুরুষদের সবাই ছিলেন তৎকালীন যুগের বড় বড় আলেম ও বুজুর্গ।
হযরতের পরিবারকে সেই যোগে কাজীর বাড়ী হিসেবে আখ্যায়িত করা হত। হযরতের বংশ পরম্পরা ইসলামের তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান (রাজিঃ) পর্যন্ত পৌছেছে তাই তাদের নামের শেষে উসমানী উপাধি ব্যবহার করে থাকতো ।
লেখা পড়ার হাতে খড়ি
পরম শ্রদ্ধেয় পিতা মাওলানা আব্দুর রউফেরনিকট بسم الله থেকে লেখাপড়া শুরু করে ১৯২১ইংরেজিতে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নিজ এলাকার ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ১৯২৭ সালে সরকারী লাইনে দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হলে তিনি সেখানে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের পড়ালেখা সম্পন্ন করেন । ১৯৩৮ সালে অনন্য মেধার অধিকারী বিরল প্রতিভার এই কিশোর অধিক জ্ঞানতৃষ্ণামেটাতে উচ্চতর জ্ঞানার্জনের অভিপ্রায়ে অদম্য স্পৃহা ও প্রবল আগ্রহ ভরে ছুটে যান তৎকালীন দক্ষিণ চট্টগ্রামের জাগানো ঐতিহ্যবাহী আলীয়া মাদ্রাসা বাঁশখালী পুইঁছড়ি সরকারী আলীয়া মাদ্রাসায়।
তিনি সেখান থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দাখিল,আলিম, ফাজিল ফাস্টক্লাসপাস করে প্রথম স্থান অধিকার করেন ।
এর পর ১৯৪৫ সালে উলুমে নববীর উচ্চ স্বর অর্জনের লক্ষ্যে পাড়ি জমান মুসলিম উম্মাহর ইসলামি শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র আজহারুল হিন্দ দারুল উলুম দেওবন্দে । পটিয়া মাদ্রাসা র স্বনামধন্য সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা নুরুল ইসলাম জাদীদ সাহেব হুজুর (রহঃ) বর্ণনা করেছেন দারুল উলুম দেওবন্দে আমি এবং ছদর সাহেব হুজুর (রহঃ) এক রুমের পাশাপাশি সিটে থাকতাম।
ছাত্র জীবন থেকেই তিনি একেবারে সহজ সরল । তখন আমি জালালাইন শরীফ পড়তাম এবং হুজুর সেহাহ সিত্তা সনদ সহকারে সমাপ্ত করে তাফসীর বিভাগে ভর্তি হন।
দীর্ঘ অনেক দিন ইলমে তাফসীর অর্জনের পর হঠাৎ একদিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
এবং দিনের পর দিন জ্বরের মাত্রা বাড়তে থাকলে ১৯৪৭ সালে আলেম জগতের সেই সম্রাট নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রত্যাগমন করেন।

ইসলামের ইতিহাসেচির স্মরণীয় কয়েকজন ধর্মীয় মনীষী যাদের থেকে হুজুর জ্ঞানার্জন করেন।

১নং বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান সিপাহ সালার শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ)
২নং মুসলিম উম্মাহর ঐতিহাসিক ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুফতিয়ে আজম পাকিস্তান আল্লামা শাহ মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহঃ)
৩নং উপমহাদেশের আরবী ভাষা সাহিত্যের অন্যতম কলম সৈনিক হযরত আল্লামা শাহ মুহাম্মদ এজাজ আলী (রহঃ)
৪নং দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাসের অন্যতম শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বিলয়াভী (রহঃ) সহ বিশ্ব বরণ্য আলেম ও বুদ্ধিজীবীর নিকট তিনি অতি সুনামের সাথে জ্ঞানার্জন করেন।
আপন শায়েখের হাতে বাইয়াত।
হুজুর নিজের বাইয়াতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি একদিন স্বপ্নে দেখলাম যে এক বুজুর্গ খাটের উপর ঘুমাচ্ছেন।আর তার চারপাশে আগুন জ্বলছিল আমি যখন তার নিকটবর্তী হলাম
তিনি তাৎক্ষনিক আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলে চিৎকার করে দাড়িয়ে গেলেন।
আর আমি ও তার সাথে সাথে আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলতে লাগলাম।
তিনি আমাকে তিনটি সাদা বর্ণের জিনিস খাওয়ালেন। লোকেরা বললেন তিনি অনেক বড় বুজুর্গ আর আগুন হচ্ছে তার কারামত যা কোন ক্ষতি করেনা।
দুই তিন মাস পর মুফতি সাহেব হুজুর (রহঃ) টেকনাফের হ্নীলায় তাশরীফ আনলেন।
আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং হুজুরের সাথে আগে কখনও দেখা হয়নি এবং জানা শুনা ও ছিল না। হযরতকে দেখতে আমার বুঝা বাকি ছিল না যে ইনি আমার স্বপ্নের মানুষ।
আমি একাকী হযযতকে আমার স্বপ্নের বিবরণী শুনালে তিনি জানালেন ব্যাখ্যা ভালো করে বুঝা আসছে না।
আবেদনের প্রেক্ষিতে অনেক লোকের তিনি বাইয়াত নেন কিন্তু আমার আবেদন কবুল করেন নি।
উপরন্তু প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, সফরের অবস্থাই মানুষ চেনা যায় না।
সুতরাং আপনি পটিয়া আসুন।
তখন আগ্রহ বহাল থাকলে দেখাযাবে।
হযরত মুফতি সাহেব হুজুর (রহঃ) হ্নীলা সফর শেষে পটিয়া প্রত্যাবর্তন করছিলেন হযরতের সফর সাথী হয়ে আমিও ঘুমধুম পর্যন্ত আসলাম।
যাত্রাপথে কিছুক্ষণ বিরতি করলে আমি বিষয় একটু পরিবর্তন করে বললাম, হুজুর পটিয়া যেতে যদি দেরী হয়ে যায় এবং ইতিমধ্যে আমার মৃত্যু ঘটে তাহলে আমি বাইয়াত থেকে মাহরুম হয়ে যাব।
এবার মুফতি সাহেব হুজুর (রহঃ) অস্বীকার করলেন না। ঘুমধুম মসজিদে আমার বাইয়াত নেন।
বাইয়াতের সৌভাগ্যে আমি ঘরে ফিরলাম।
হুজুর ও পটিয়া রওয়ানা দিলেন।
কিছুদিন পর হুজুরের একটি চিঠি পেলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Copyright © All Right Reserved 2020 আমার দেশ প্রতিদিন
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )